Saturday, August 2, 2014

মামা বাড়ির আবদার! ‘ইসরাইলি সেনাকে ছেড়ে দিন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

মামা বাড়ির আবদার! ‘ইসরাইলি সেনাকে ছেড়ে দিন’

গাজা উপত্যকায় আটক একজন ইসরাইলি সেনাকে ‘নিঃশর্তভাবে’ মুক্তি দিতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "তারা যদি সংকট সমাধানে সচেষ্ট হয় তাহলে ইসরাইলি সেনাকে অবিলম্বে ‘নিঃশর্তভাবে’ মুক্তি দিতে হবে।"
ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার গাজার রাফাহ শহরে তাদের এক সেনার আটক হওয়ার খবর নিশ্চিত করে। বারাক ওবামা বলেন, ২৩ বছর বয়সি ইসরাইলি সেনা হাদার গোলদিনের মুক্তির ওপর সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নির্ভর করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজা উপত্যকার নারী ও শিশুদের ওপর ইসরাইলি নরপশুদের বর্বরোচিত হামলাকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে উল্লেখ করেন। অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে তিনি বলেন, হামাসের রকেট হামলা থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য ইসরাইল গাজায় হামলা চালাচ্ছে।
মানবাধিকারের কথিত রক্ষক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এমন সময় গাজা আগ্রাসনের পক্ষে সাফাই গাইলেন যখন ইসরাইলের চলমান হামলায় নিহতদের শতকরা ৮০ ভাগ বেসামরিক নাগরিক বলে স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। গত ২৬ দিনের গাজা আগ্রাসনে অন্তত ১,৭০০ মানুষ নিহত ও অপর প্রায় ৯,০০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস শুধুমাত্র ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে যাতে এ পর্যন্ত তেল আবিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৬৩ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। তবে হামাস বলেছে, তারা অন্তত ১৩০ জন ইহুদিবাদী সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে।
এদিকে ইসরাইল শুক্রবার তাদের এক সেনার নিখোঁজ হওয়ার খবর দিলেও হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন কাসসাম ব্রিগেড আজ (শনিবার) জানিয়েছে, নিখোঁজ ইসরাইলি সেনার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। তবে রাফাহ শহরে অভিযান চালাতে যাওয়া একদল যোদ্ধার সঙ্গে ব্রিগেডের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ কারণে ওই যোদ্ধাদের সঙ্গে নিখোঁজ ইসরাইলি সেনা হয়তো ইহুদিবাদীদেরই হামলায় নিহত হয়েছে বলে কাসসাম ব্রিগেড জানিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি হামাসের

গাজায় বর্বর ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।



ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে হামাস। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও হামাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটুকু কমেনি-প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে ইহুদিবাদী বর্বর সেনারা। ইসরাইলের অভ্যন্তরে হামাসের রকেট হামলাও অব্যাহত আছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাস এমন একটি যোদ্ধা গ্রুপ যারা নীরবে নিজস্ব অস্ত্রসম্ভার তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। তারা তৈরি করছে রকেট। সুড়ঙ্গপথ ব্যবস্থা হামলা চালিয়ে ইসরাইলি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করছে হামাস।

হামাসের শক্তির পেছনে আরেকটি উৎস হচ্ছে স্বপ্রণোদিত হয়ে ইসলামপন্থী এই সংগঠনে যোগ দেয়া বিরাট সংখ্যক যোদ্ধা। বস্তুত যোদ্ধার কোনো অভাব নেই হামাসে। হামাস রাষ্ট্র-বহির্ভূত একটি সামরিক সংগঠন। ফলে এখানে সংগঠনের হিসেবের বাইরেও অনেক যোদ্ধা রয়েছেন। হামাস নেতারাও ঠিক বলতে পারবেন না তাদের কমান্ডে কত যোদ্ধা রয়েছেন । হামাসের সামরিক শাখার জনশক্তি অনেকটাই অনুমান ভিত্তিক।

হামাসের সামরিক শাখা ইজ আল-দীন আল-কাসসাম বিগ্রেডের সদস্য সংখ্যা ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ হাজার হতে পারে বলে অনুমান করা হয়।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষণায় বলা হয়, হামাসের সার্বক্ষণিক যোদ্ধার সংখ্যা ৭,০০০ থেকে ১০,০০০। তবে রিজার্ভ সদস্য সংখ্যা ২০,০০০।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক খ্যাতনামা সামরিক ম্যাগাজিন জেনস-এর তথ্য মতে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামাসের উন্নত প্রশিক্ষিত এবং আধুনিক সমরাস্ত্র সজ্জিত যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৩,০০০।

জেনসের কাছে একজন সিনিয়র ফিলিস্তিনি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, কাসসাম ব্রিগেডে ১০০০- এর বেশি ম্যানপ্যাড (ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) আছে। লিবিয়ার একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের সময় এস লুট করা হয়। তবে ইসরাইলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কারণে এসব অস্ত্র হয়তো তেমন কাজে দেবে না। কাসসাম ব্রিগেড স্বীকার করেছে, ইসরাইলের সাথে সর্বশেষ যুদ্ধের পর থেকেই তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে যাতে একটি নিয়মিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালানো যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো রকেট লাঞ্চার দিয়ে হামলার প্রস্তুতি।

তবে এখনো মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সুসজ্জিত সশস্ত্র সংগঠন হেজবুল্লাহর মতো বিশাল সৈন্য বাহিনী নেই হামাসের।

লেবানন এবং সিরিয়াজুড়ে হেজবুল্লাহ একটি ‘পপুলার আর্মি’ গড়ে তুলেছে। তাদের যোদ্ধার সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে দেড় লাখের মধ্যে। অবশ্য, হামাসের মত হেজবুল্লাহও তার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রকাশ করে না।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার