Friday, August 1, 2014

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলি হামলা : ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত

জাতিসঙ্ঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে ইসরাইল ও হামাস। হামাস বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজার রাফাহ ও খান ইউনুস শহরে বিমান এবং ট্যাংকের হামলা চালিয়েছে। এতে ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছেন। ফলে গতকাল পর্যন্ত ২৫ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১৪৬০ ছাড়িয়েছে। অন্য দিকে ইসরাইলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হামাসের হাতে গতকাল পর্যন্ত তাদের ৬৮ জন সেনা নিহত ও একজন আটক হয়েছে। গাজার দণিাঞ্চল থেকে গতকাল ওই সৈন্যকে আটক করেছে হামাস। হামাস জানিয়েছে তাদের হাতে ১৪০ ইসরাইলি সেনা নিহত ও কয়েক শ’ আহত হয়েছে। ইসরাইলের সর্বাত্মক হামলায় বিপর্যস্ত গাজায় খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মানুষ খাবারের জন্য দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। খবর আলজাজিরা, এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স ও রেডিও তেহরানের। 
 
 

গতকাল অস্ত্রবিরতি ভেঙে গাজার রাফাহ শহরের হাসপাতাল ও শপিংমলে ইসরাইলি বাহিনী গোলা নিপে করলে ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামাস যোদ্ধারাও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। রাফাহ শহরে হামাসের হামলায় ইসরাইলের আরো ১০ সেনা নিহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনের গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে, ইসরাইল মার্কিন এনবিসি টেলিভিশনকে দুই সেনা নিহত ও একজন আটকের কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ইসরাইলের সেনা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিটার লার্নার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, হামাসের হাতে সেনা আটকের ঘটনার পর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম সুযোগেই খান ইউনুস শহরে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনা আটকের পর ইসরাইল রাফাহ শহরের লোকজনকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে শিগগির সেনা অভিযান শুরু হবে বলেও জানিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতরের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা গাজায় অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। কোনো কোনো মিডিয়ায় খবর বের হয়েছে যে, নেতানিয়াহুর দফতর থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির আগেই নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি হোক বা না হোক তার সেনারা গাজার টানেল ধ্বংস করবেই। সে েেত্র যুদ্ধবিরতি যে খুব একটা কার্যকর হবে না তা মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। হামাস মুখপাত্র আবু জুহরিও বলেছিলেন, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি পালন করলে তারাও তা মেনে চলবেন।

এ দিকে ইসরাইলি হামলা তীব্রতর হওয়ায় হামাসও ইসরাইলের ভেতরে রকেট ছুড়েছে। গতকাল দুপুরের দিকেই এশকল এবং আশকেলোনসহ বেশ কয়েকটি শহরে হামাসের রকেট আঘাত হানার সময় রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়।
নিখোঁজ সেনার সন্ধানে দণি গাজায় তল্লাশি : ইসরাইলি বাহিনী দণি গাজায় তাদের নিখোঁজ এক সেনার সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। তারা ধারণা করছে ওই সেনাকে হামাস যোদ্ধারা সম্ভবত অপহরণ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে ওই সেনা নিখোঁজ হয়। গতকাল শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বোঝা যাচ্ছে, ওই সেনাকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা অপহরণ করেছে। তার অবস্থান জানার জন্য ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এখন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সর্বাত্মক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনীর মুখপাত্র পিটার লার্নার জানান, তারা গাজায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
‘১৩ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছি’ : ডেভিড ওবাদিয়া নামে ইসরাইলের বর্বর এক সেনা স্বীকার করেছে, সে একাই ১৩ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। ওই সেনা বলেছে, একটি স্নাইপার রাইফেল দিয়ে সে এক দিনে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এসব নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঠিক কবে বা কখন ঘটিয়েছে তা সে পরিষ্কার করেনি।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইসরাইল যখন বর্বর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং নারী-শিশুসহ নিষ্পাপ সাধারণ মানুষ একের পর শহীদ হচ্ছেন তখন এ সেনা নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ কথা জানিয়েছে। স্নাইপার রাইফেল ধরে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও সে পোস্ট করেছে তার অ্যাকাউন্টে। তবে অজ্ঞাত একটি হ্যাকার গ্রুপ তার এ ছবি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলেছে। দুই বছর ধরে এ হ্যাকার গ্রুপ ইসরাইলের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালিয়ে আসছে।

ইসরাইলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে স্প্যানিশ তারকাদের খোলা চিঠি : গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে লেখা এক খোলা চিঠিতে স্বার করেছেন স্প্যানিশ তারকা অভিনেত্রী পেনিলোপি ক্রুজ ও তার স্বামী অস্কারজয়ী অভিনেতা হ্যাভিয়ের বারডেম। এ ছাড়া স্পেনের অনেক অভিনেতা, চিত্রপরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী এতে স্বার করেছেন। ব্রিটেনের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা এ খবর দিয়েছে। খোলা চিঠিতে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আরো কঠোর পদপে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপা প্রেসসহ স্পেনের অন্যান্য বার্তা সংস্থা খোলা চিঠিটি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, আজ গাজাবাসী বিভীষিকার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তারা অবরুদ্ধ। আকাশ, নৌ আর স্থলপথে তাদের ওপর চলছে হামলা। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে। পানি, বিদ্যুৎ আর স্কুল, হাসপাতালে খোলামেলা যাতায়াতের মৌলিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে দখলকারী বাহিনী আখ্যা দিয়ে চিঠিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে গাজা উপত্যকায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment