Saturday, August 2, 2014

ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধে বিশ্বের নীরবতা অমার্জনীয় : সৌদি বাদশাহ


ইসলামের দুই পবিত্রতম মসজিদের খাদেম সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বলেছেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধে বিশ্বের নীরবতা অমার্জনীয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পরিবেশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। বাদশাহ বলেন, আমরা ফিলিস্তিনে ব্যাপক গণহত্যায় আমাদের ভাইদের রক্তপাত হতে দেখছি। এতে কেউ বাদ পড়ছে না। এ সব কাজ মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ। তিনি বলেন, এসব ঘটছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনে। তারা গোটা এলাকার ঘটনাবলিতে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরবে এ সব ঘটনা প্রত্যক্ষ করছে। এ অঞ্চলের ঘটনাবলি বিশ্ব সম্প্রদায় নীরবে প্রত্যক্ষ করছে এবং তাতে নির্বিকার রয়েছে। মনে হচ্ছে যেন এসব ঘটনায় তারা চিন্তিত নন। এই নীরবতার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এই নৃশংসতায় আরো সহিংসতার জন্ম হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী এ ব্যাপারে সচেতন নয় যে, এই ঘটনা থেকে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা নিছক সংিসতায় বিশ্বাস করবে এবং শান্তির পথ প্রত্যাখ্যান করবে? তারা বিভিন্ন সভ্যতার সংলাপ নয়, সঙ্ঘাতে বিশ্বাস করবে। যারা ইসলামের দুর্নাম করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বাদশাহ বলেন, ওহি নাজিলের স্থান ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মভূমি থেকে আমি মুসলিম উম্মাহর নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানাই তারা যেন মহান আল্লাহর প্রতি তাদের কর্তব্য পালন করেন এবং যারা ইসলামকে বিশ্বের সামনে উগ্রতা, ঘৃণা ও সন্ত্রাসের ধর্ম হিসেবে তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আপনারা সত্য কথা বলুন এবং কাউকে ভয় পাবেন না। কেননা মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে কঠিন ঐতিহাসিক পর্যায় অতিক্রম করছে। যারা উম্মাহকে বিভক্ত করতে ও ইসলামের প্রকৃত ইমেজ নষ্ট করতে শত্রুদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ইতিহাস সাক্ষী থাকবে। গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরু হওয়ার ২৫ দিন পর সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ এসব কথা বললেন এবং গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা সম্পর্কে ‘বিশ্ব সমাজের নীরবতার’ নিন্দা করলেন!

বাদশাহ আবদুল্লাহ এমন সময় ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানালেন যখন গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ ও নৃশংস হামলায় এক হাজার ৬০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এর আগে সৌদি রাজপুত্র ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান তুর্কি ফয়সাল গাজায় ইসরাইলি হামলার জন্য হামাসকেই দায়ী করেছেন!

তুর্কি বলেছিলেন, হামাস অতীতের মতোই ভুল করে যাচ্ছে এবং গোঁয়ার্তুমি করে ইসরাইলে অকার্যকর বা প্রভাবহীন রকেট নিপে করছে বলেই ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে! তুরস্ক ও কাতার সাম্প্রতিক যুদ্ধে মিসরকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে দিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। গাজা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চেয়েও মিসরকে বাধা দেয়া তুরস্ক ও কাতারের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

No comments:

Post a Comment